শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

সাঈদ ইবনু আমের আল-জুমাহি : দুনিয়াবিরাগী সাহাবি

0

একজন গরিব শাসক :
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খেলাফতকাল। তিনি দরবারে বসে আছেন। তাঁর সম্মুখে বসে আছে সিরিয়ার হিমস শহর থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল। আলোচনার ফাঁকে তিনি তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা আমাকে তোমাদের অভাবীদের নাম লিখে দাও, আমি তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দেব’।
তারা একটি তালিকা প্রস্তুত করে আমিরুল মুমিনিনকে দিল। সে তালিকায় অন্যান্য নামের সাথে একটি নাম ছিল সাঈদ ইবনু আমের।
তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে এই সাঈদ ইবনু আমের?’
তারা বলল, ‘তিনি আমাদের শাসক।’
তিনি আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘তোমাদের শাসক অভাবী?’
তারা বলল, ‘জি হ্যাঁ, শপথ আল্লাহর! বহু দিন তাঁর এমন কাটে যে, তাঁর উনুনে আগুন জ্বলে না।’
এটা শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কেঁদে ফেললেন। এত বেশি কাঁদলেন যে, তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। এরপর একটা থলেতে একহাজার স্বর্ণমুদ্রা ভরে তাদেরকে দিয়ে বললেন, ‘তোমরা তাঁকে আমার সালাম জানিয়ো এবং বলে দিয়ো, আপন প্রয়োজন পূরণের জন্য আমিরুল মুমিনিন এই অর্থগুলো তাঁকে দিয়েছেন।’
সেই লোকেরা যখন নিজ শহরে ফিরে আসল, শাসককে তখন সেই থলে দিলো। তিনি তা খুলে দেখলেন স্বর্ণমুদ্রায় ভর্তি। তৎক্ষণাৎ তিনি থলের কাছ থেকে দূরে সরে গেলেন, যেন ভেতরে বিষধর সাপ ওঁত পেতে আছে।
এরপর বলতে লাগলেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এই আওয়াজ শুনে তাঁর স্ত্রী ত্রস্তা হরিণীর মতো ছুটে আসলেন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে, সাঈদ? আমিরুল মুমিনিন কি মৃত্যুবরণ করেছেন?’
তিনি বললেন, ‘না, বরং তার চেয়ে বড় বিপদ।’
স্ত্রী বললেন, ‘মুসলিমদের উপর কি আক্রমণ হয়েছে?’
তিনি বললেন, ‘আমার আখেরাত ধ্বংস করার জন্য দুনিয়া আমার কাছে এসেছে, আমার ঘরে ফেতনা ঢুকে গেছে।’
স্ত্রী বললেন, ‘তাহলে তা দূর করে দাও!’ স্ত্রী এই স্বর্ণমুদ্রার ব্যাপারে তখন পর্যন্ত কিছুই জানেন না।
সাঈদ ইবনু আমের তাঁকে বললেন, ‘তুমি কি আমাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’
তারপর স্বর্ণমুদ্রাগুলো কয়েকটা থলেতে ভরে অভাবী মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। [মুখতাসারু তারিখি দিমাশক— ৯/৩২০]

কে তিনি?
তিনি হচ্ছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তারকাতুল্য সাহাবিদের অন্যতম একজন। সাহাবিদের মধ্যে তিনি নেতৃস্থানীয় ছিলেন। তাঁর দুনিয়াবিমুখতা ছিল প্রবাদপ্রতীম। অত্যন্ত সরল ছিল জীবনযাপন। অন্যান্য সাহাবির মতো তিনিও আখেরাতের বিনিময়ে আপন দুনিয়াকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তাঁর বেশভূষায় সবসময় অভাব পরিলক্ষিত হতো। এর কারণ প্রকৃত অর্থে অভাব কিংবা কৃপণতা নয়, বরং তাঁর হাত ছিল প্রশস্ত, কখনোই সম্পদ জমা করতেন না, হাতে সম্পদ আসলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবটুকু আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দিতেন।
তাঁর নাম সাঈদ। পিতার নাম আমের। মাতার নাম আরওয়া বিনতু আবি মুয়িত। তাঁর বংশপরম্পরা হলো—সাঈদ ইবনু আমের ইবনু হাজিম ইবনি সালামান ইবনি রাবিআ ইবনি সা’দ ইবনি জুমাহ ইবনি আমর ইবনি হাসিস ইবনি কা’ব। কা’ব থেকে তাঁর বংশ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশের সাথে মিলে গেছে। তিনি জুমাহ গোত্রের লোক। এ গোত্র কুরাইশ বংশের একটি শাখা। তাঁর জন্মসাল ও ইসলামপূর্ব জীবন সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।

যেভাবে মুসলিম হলেন
তখন তিনি যুবক। একবার মক্কায় ঘোষণা দেওয়া হলো, অমুক তারিখে তানঈম প্রান্তরে মুহাম্মদের এক অনুচরকে ফাঁসি দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট দিনে হাজার হাজার মানুষের সাথে তিনিও সেই প্রান্তরের দিকে ছুটলেন। সেখানে পৌঁছে ঠেলেঠুলে একদম ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে আসলেন। একটু পর তিনি দেখলেন, কুরাইশদের বর্বর নেতারা খুবাইব ইবনু আদি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ফাঁসির মঞ্চে তুলল। আহা! এত অত্যাচারিত হওয়ার পরও কী দীপ্তিময় তাঁর চেহারা। তারা তাঁর শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে তিনি দুরাকাত নামাজ পড়তে চাইলেন। তাঁরা সুযোগ দিল। তিনি প্রশান্তচিত্তে হৃদয় উজাড় করে নামাজ আদায় করলেন। অদূরে দাঁড়ানো যুবক সাঈদ দেখলেন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও মহান মালিকের সম্মুখে নতজানু এক গোলামকে, খোদাভীরু এক বান্দাকে। নামাজের পর তিনি শুনলেন বর্বরদের অনৈতিক দাবির বিপরীতে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু’র দৃপ্তকণ্ঠ—‘রাসুলের পায়ে সামান্য কাঁটা ফোটার বিনিময়ে তোমরা আমার মুক্তি দিতে চাইলেও আমি তাতে রাজি নই। রাসুলের সামান্য কষ্টের চেয়ে আমার মৃত্যু শতগুণে শ্রেষ্ঠ।’ আহা, কী ভালোবাসা! কী আত্মত্যাগ! এরপর তাঁকে আকাশের দিকে তাকিয়ে বদদুআ করতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ, এদেরকে গোনে গোনে রাখুন, এদের প্রত্যেককে পাকড়াও করুন, কাউকে ছাড়বেন না।’ অবশেষে যুবক সাঈদ দেখলেন নির্মমতম এক হত্যাকাণ্ড।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এই বিরল আত্মোৎসর্গের দৃশ্য যুবক সাঈদ ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু’র উপর বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করল। দৃশ্যগুলো তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াতে লাগল। জাগ্রত অবস্থায় তাঁর চোখে ভেসে বেড়াতে লাগল এবং ঘুমালে স্বপ্নে ফিরে ফিরে আসতে লাগল। তাঁর চিন্তাচেতনাকে আচ্ছন্ন করে রাখল। এইভাবে কিছুদিন কাটানোর পর অবশেষে তাঁর চিন্তার দুয়ার খুলে গেল। তিনি চিরসত্যের পথ খুঁজে পেলেন। ৭ম হিজরিতে, খায়বার যুদ্ধের পূর্বে দেবদেবী ও বর্বর কুরাইশদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করে ইসলামগ্রহণ করলেন। [সুওয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবা—৭]

যাপিত মুসলিমজীবন
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি মদিনায় হিজরত করেছিলেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভের মহাসৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। খায়বার যুদ্ধসহ পরবর্তী সকল যুদ্ধে নিজের সর্বোচ্চটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থেকে থেকে অর্জন করেছিলেন ইলম ও আমলের নুর, শিখেছিলেন আল্লাহর সাথে ব্যবসা করার পদ্ধতি, একপর্যায়ে তিনি আখেরাতের বিনিময়ে আপন দুনিয়াকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

বর্ণিত হাদিস
তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের থেকে কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো এই—
তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, (কেয়ামতের দিন) গরিব মুসলমানেরা উঠে আসবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াও। তারা বলবে, আল্লাহর কসম! আমাদের তো হিসাব দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। এরপর তারা অন্য লোকদের থেকে সত্তর বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [আল ইসাবা—৩/৯৩, হিলয়াতুল আওলিয়া—১/২৪৭]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর খলিফাদ্বয়—আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র জন্যে সাঈদ ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু হয়ে গিয়েছিলেন কোষমুক্ত তরবারি। উভয়ের অধীনে তিনি আল্লাহর রাস্তায় বহুবার জিহাদ করেছিলেন। মহান খলিফাদ্বয় তাঁর সততা ও খোদাভিরুতা সম্পর্কে জানতেন। তাঁর যে কোনো পরামর্শ তাঁরা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং গুরুত্ব দিতেন।

শাসক সাঈদ ইবনু আমের
হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খেলাফতকালে একবার সিরিয়ার হিমস শহরের জন্য খোদাভীরু, সৎ ও যোগ্য একজন শাসকের প্রয়োজন পড়ল। তিনি তালাশ করতে লাগলেন। হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল সাঈদ ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কথা। তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তিনি এলে তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণের কথা বললেন। জবাবে সাঈদ ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু ওজর পেশ করে বললেন, ‘আমিরুল মুমিনিন, আমাকে বিপদে ফেলবেন না।’ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছুটা রাগতস্বরে বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে ছাড়ছি না, আমার কাঁধে খেলাফতের দায়িত্ব চাপিয়ে তোমরা সরে পড়বে?’ এ কথা শুনে তিনি মেনে নিলেন। এরপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর জন্য বেতন ধার্য করতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমিরুল মুমিনিন, আমি বেতন দিয়ে কী করব? এটা আমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়ে যাবে।’ দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নবপরিণিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় হিমসের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। [তাবাকাত ইবনু সা’দ—৫/৯১, আল ইসাবাহ—৩/৯৩, হিলয়াতুল আওলিয়া—১/২৪৭]
এর কিছুদিন পর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু খবরাখবর নেওয়ার জন্য সিরিয়ায় গেলেন। কয়েকটা শহর ঘুরে হিমস শহরে আসলেন। হিমসকে তখন ডাকা হতো ‘কুওয়াইফা’ তথা ছোট কুফা। এর কারণ হলো, সেখানকার অধিবাসীরা কুফাবাসীদের মতো সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অধিক অভিযোগ করত। তিনি সেখানে নেমে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা তোমাদের শাসককে কেমন পেয়েছ?’ তারা তাঁর ব্যাপারে চারটা অভিযোগ করল।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন শাসক সাঈদ ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাদের মুখোমুখি করলেন। মনে মনে আল্লাহর কাছে দুআ করতে লাগলেন যেন তাঁর ব্যাপারে তিনি যা ধারণা করতেন, তা যেন মিথ্যে না হয়। তিনি তাঁর উপর খুব নির্ভর করতেন। এরপর তিনি তাদেরকে বললেন, ‘এখন বলো শাসক সম্পর্কে তোমাদের কী অভিযোগ।’
তারা বলল, ‘তিনি দুপুরের পূর্বে আমাদের কাছে আসেন না।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘সাঈদ, এ সম্পর্কে তুমি কী বলবে?’
সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, এ অবস্থায় না পড়লে এসব আমি কখনো বলতাম না। আমার ঘরে কোনো খাদেম নাই। এজন্য প্রতিদিন সকালে উঠে আমাকে আটা পিষতে হয়, খামিরা তৈরি করতে হয়, রুটি বেলে সেঁক দিতে হয়। এরপর আমি অজু করে মানুষের উদ্দেশে বের হই।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের বললেন, ‘এরপর কী অভিযোগ তোমাদের?’
তারা বলল, ‘তিনি রাতে কারও ডাকে সাড়া দেন না।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘এর উত্তরে তুমি কী বলবে, সাঈদ?’
সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আল্লাহর কসম, এসব প্রকাশ হওয়াকে আমি খুব অপছন্দ করতাম। আমি দিনকে তাদের জন্য রেখেছি। আর রাতকে রেখেছি আল্লাহ তাআলার জন্য।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘এরপর কী অভিযোগ?’
তারা বলল, ‘প্রতি মাসে একদিন তিনি আমাদের কাছে আসেন না।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘এটা কী, সাঈদ?’
সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমিরুল মুমিনীন, আমার কোনো খাদেম নাই। আর আমার পরনের এই কাপড় ছাড়া অন্য কোনো কাপড় নাই। এজন্য এটা প্রতি মাসে একবার ধুই। এরপর শুকানোর অপেক্ষা করি। সেদিন বিকালে তাদের কাছে যাই।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘এরপর কী অভিযোগ?’
তারা বলল, ‘মাঝেমধ্যে মজলিসে লোকদের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।’
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘ব্যাপার কী, সাঈদ?’
সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমি মুশরিক অবস্থায় খুবাইব ইবনু আদি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্মমভাবে হত্যা করার দৃশ্য দেখেছিলাম। আমি দেখেছিলাম, কুরাইশরা তাঁর শরীরে আঘাত করে করে বলছে, তুই কি চাস তোর জায়গায় মুহাম্মাদ থাকুক? জবাবে তিনি বলছেন, রাসুলের পায়ে সামান্য কাঁটা ফোটার বিনিময়ে তোমরা আমার মুক্তি দিতে চাইলেও আমি তাতে রাজি হবো না। রাসুলের সামান্য কষ্টের চেয়ে আমার মৃত্যু শতগুণে শ্রেষ্ঠ। আহ! সেদিন কেন যে আমি তাঁকে সাহায্য করিনি! যখনই সেদিনের কথা মনে হয়, আমার মনে হয় আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না। এই চিন্তাই তখন আমাকে বেহুঁশ করে দেয়।’
এটা শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে উঠলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি আমার ধারণাকে মিথ্যে করেননি।’ এরপর তিনি তাঁর কাছে প্রয়োজন পূরণ করার জন্য একহাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রেরণ করলেন।
সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র স্ত্রী সেগুলো দেখে খুশি হয়ে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তোমার খেদমত নেওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। এগুলো দিয়ে আমাদের জন্য খাদ্যদ্রব্য কিনে নাও এবং একজন খাদেম নিয়োগ দাও।’
তিনি বললেন, ‘তুমি কি এর চেয়ে উত্তম কিছু চাও না?’
স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, ‘সেটা কী?’
তিনি বললেন, ‘আমরা আল্লাহ তাআলাকে এগুলো কর্জে হাসানা দেবো। আমরা তো এসবের চেয়ে তাঁর বিনিময়ের প্রতিই অধিক মুখাপেক্ষী।’
স্ত্রী বললেন, ‘ঠিক আছে। আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।’
এরপর তিনি সে জায়গায়ই স্বর্ণমুদ্রাগুলো কয়েকটি থলেতে ভরে তাঁর পরিবারের একজনকে সেগুলো দিয়ে বললেন, ‘তুমি অমুক এতিম, অমুক ফকির, অমুক মিসকিন এবং অমুক বিধবার কাছে গিয়ে তাদেরকে এগুলো দিয়ে দাও।’ [হিলয়াতুল আওলিয়া—১/২৪৫, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক— ৯/৩২৪]

ইন্তেকাল
এই মহান সাহাবি, এই দুনিয়াবিমুখ শাসক ২০ হিজরিতে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খেলাফতকালে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সন নিয়ে আরও মত রয়েছে, কেউ বলেন ১৮ হিজরি, কেউ ১৯ হিজরি, কেউ ২১ হিজরি। মৃত্যুর সময় তিনি কোনো সন্তান রেখে যাননি।

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

error: Content is protected !!