শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

যায়েদ ইবনু সাবেত : রাসুলের মুখপাত্র

0

বুদ্ধিদীপ্ত বালক :
বেশ কিছুদিন হলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসেছেন। আপন গোত্রের লোকদের বর্বরতায় অতিষ্ঠ হয়ে ছেড়ে এসেছেন প্রিয় জন্মভূমি মক্কা। সে ক্ষত এখনও অন্তরে পুরোপুরি তাজা। এখন তিনি ও তাঁর তারকাতুল্য সাহাবিগণ মদিনা আবাদের কাজ পুরোদমে করে যাচ্ছেন। একদিন তাঁর কাছে এক বালককে নিয়ে আসা হলো। বয়স তাঁর মাত্র এগারো, কিন্তু চেহারা বুদ্ধিদীপ্ত। লোকেরা বলল, ‘এ নাজ্জার গোত্রের ছেলে, এরই মধ্যে সে সতেরটা সুরা মুখস্থ করে নিয়েছে।’ এটা শুনে রাসুল তাঁকে বললেন, ‘আমাকে পড়ে শোনাও তো।’ সে সাবলীল কণ্ঠে বিশুদ্ধভাবে সুরাগুলো শুনিয়ে দিলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুগ্ধ হয়ে গেলেন। বুঝতে পারলেন, বয়স কম হলেও ছেলেটি বেশ মেধাবী। তাকে কাজে লাগানো যাবে। স্নেহঝরা কণ্ঠে বললেন, ‘আমার জন্যে তুমি ইহুদিদের কিতাব শিখে নাও, ওদের থেকে আমি নিরাপদ নই।’ সেদিন থেকেই ছেলেটি লেগে পড়ল। মাত্র চৌদ্দ/পনের দিনে সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ বাস্তবায়ন করে ফেলল। পরবর্তীতে সে হয়ে গেল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখপাত্র। ইহুদিদের কোনো চিঠিপত্র আসলে কিংবা তাদের প্রতি চিঠি লিখতে হলে তার ডাক পড়ত।

পরিচয় ও ইসলামগ্রহণ
সেদিনের সেই ছেলেটি কে ছিল? ওইটুকু বয়সে কার উপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমন মহান দায়িত্ব দিয়েছিলেন? তিনি হচ্ছেন বিখ্যাত আনসারি সাহাবি যায়েদ ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি মদিনার অন্যতম গোত্র খাযরাযের নাজ্জার বংশের লোক। তাঁর পিতা হচ্ছেন সাবেত ইবনু যাহ্হাক। মাতা নাওয়ার বিনতু মালিক। তাঁর বংশপরম্পরা এরকম : যায়েদ ইবনু সাবেত ইবনি যাহ্হাক ইবনি যায়েদ ইবনি লুযান ইবনি আমর ইবনি আউফ ইবনি গানাম ইবনি মালিক ইবনি নাজ্জার। তাঁর দুটি উপনাম ছিল, আবু সাঈদ ও আবু খারেজা। তিনি হিজরতের প্রায় বারো বছর পূর্বে ৬১১ ঈসায়িতে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন ছয়, তখন তাঁর পিতা আউস ও খাযরাযের মধ্যকার বুআস যুদ্ধে নিহত হন। এ ঘটনা হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বের। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় আগমনের পরপরই তিনি সপরিবারে ইসলামগ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স ১১।

রাসুলের সুহবতে
তিনি যোগ্যতার ঔজ্জ্বল্য দেখিয়ে রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুগ্ধ করে দেন। তাঁর মুখপাত্র হয়ে যান। জায়গা করে নেন তাঁর অন্তরের অন্তস্থলে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুহবতে থেকে থেকে তাঁর সেই যোগ্যতা প্রস্ফুটিত হতে থাকে। তিনি তাঁর উপর যাবতীয় লেখালেখির দায়িত্ব অর্পণ করেন। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, ‘আমার কাছে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে চিঠি আসে, যেগুলো আমি কাউকে পড়াতে চাই না। তুমি কি সুরইয়ানি ভাষা শিখতে পারবে?’ তিনি বললেন, ‘জি হ্যাঁ।’ তারপর তিনি মাত্র সতের দিনে সে ভাষা শিখে ফেলেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহি লেখার মহান দায়িত্বও তাঁকে দেন। যায়েদ ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বয়ং বলেন, ‘যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ওহি অবতীর্ণ হতো, তখন আমাকে ডেকে পাঠাতেন। আমি গিয়ে তা লিখে রাখতাম।’ এ দায়িত্বের উসিলায় কুরআনের উপর তাঁর বিশেষ যোগ্যতা অর্জিত হয়। তাছাড়া তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কুরআন তেলাওয়াত করেন। একপর্যায়ে তিনি শায়খুল কুররা হয়ে যান। রাঈসুল মুফাসসিরিন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু’র মতো ব্যক্তিও তাঁর কাছে কুরআন তেলাওয়াত করেন।
তাঁর ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে যায়েদ ফারায়েয তথা উত্তরাধিকার বণ্টন-আইন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখে।

জিহাদের ময়দানে
তিনি বদরযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করেন। তখন তাঁর বয়স এগারো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আগ্রহ দেখে খুব খুশি হন। কিন্তু বয়স স্বল্পতার কারণে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। উহুদযুদ্ধের সময়ও তিনি অংশগ্রহণের অনুমতি পাওয়ার জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুব অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু তখনো তাঁকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে রাসুল তাঁকে পরবর্তী যুদ্ধে অনুমতি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে সর্বপ্রথম তিনি খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স পনেরো। সেদিন তিনি অন্যদের সাথে মাটি বহন করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখে বললেন, ‘কতই-না ভালো ছেলে সে।’ তাবুক যুদ্ধে প্রথমে নাজ্জার গোত্রের ঝাণ্ডা উমারা ইবনু হাযম রাদিয়াল্লাহু আনহু’র হাতে ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছ থেকে নিয়ে যায়েদ ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দিয়ে দেন। উমারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কোনো কিছু কি পৌঁছেছে?’ তিনি বললেন, ‘না, তবে কুরআনকে তো অগ্রগামী রাখতে হয়। যায়েদ তোমার চেয়ে কুরআন অধিক জানে।’ এ ছাড়াও বহু যুদ্ধে তিনি কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

হাদিস বর্ণনা
সাহাবিগণের মধ্যে দ্বীন সম্পর্কে জানার পিপাসা অত্যন্ত বেশি ছিল, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সার্বক্ষণিক লেগে থাকতেন। যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর থেকে ভিন্ন ছিলেন না। বরং তাঁর সুযোগ ছিল বেশি। ফলত তিনি হাদিসের ময়দানে অনেক এগিয়ে ছিলেন।
তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন সাহাবিগণের এক বড় দল। তন্মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন : আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু, আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু, ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাবেয়িগণের মধ্যে বর্ণনা করেছেন, তাঁর দুই ছেলে—খারেজা রহ. ও সুলাইমান রহ., সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ. এবং কাসেম ইবনু মুহাম্মাদ রহ.-সহ আরও অনেকে।

কুরআন সংকলন
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খেলাফতকালে মুসায়লামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সে যুদ্ধে ভণ্ড নবির পরাজয় ঘটলেও মুসলমানদের পক্ষে ৭০ জন হাফেজে কুরআন সাহাবি শাহাদত বরণ করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কুরআন সংগ্রহ করা পরামর্শ দেন। তিনি সে পরামর্শের ভিত্তিতে যায়েদ ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডেকে এনে বললেন, ‘তুমি বুদ্ধিমান যুবক। আমরা তোমার প্রতি নির্ভর করি। তুমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লিপিকার ছিলে, ওহিও লিখতে। তাই তুমি কুরআন একত্র করার কাজটা কর।’ যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আল্লাহর কসম! যদি তাঁরা আমাকে পাহাড় স্থানান্তরের কাজ দিতেন, তবে আমি একটা একটা করে পাথর সরাতাম, তবুও সেটা আমার জন্য এই কাজ থেকে কঠিন হতো না।’ এরপর তিনি কাজে লেগে পড়েন। একপর্যায়ে পুরো কুরআন একত্র করে নেন। এটা কুরআন সংকলনের প্রথম স্তর।
চূড়ান্তরূপে সংকলিত হয় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খেলাফতকালে। তখন নতুন নতুন এলাকা বিজয় হতে থাকে। ফলে মুসলমানদের মাঝে বাড়তে থাকে মতভিন্নতা। কুরআন তিলাওয়াতেও তারতম্য দেখা দেয়। সে-সময় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন অনুভব করেন। যেহেতু যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু পূর্ব-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তাই কাজটি তাঁকে দেন। সঙ্গে আরো কয়েকজনকে দেন। তাঁরা সকলে মিলে এই মহান কাজটি সুন্দরভাবে আঞ্জাম দেন। সেই মুসহাফ ছিল উবাই রাদিয়াল্লাহু আনহু ও যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কেরাআতের উপর সংকলিত।

সাহাবিগণের মূল্যায়ন
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম ও কুরআনের সাথে বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি শরিয়তের নিগূঢ় তত্ত্ব সহজে বুঝতেন। সাহাবিগণের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারি। নির্দিষ্ট কয়েকজন মুফতি সাহাবির মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন। যে কোনো বিষয়ে তাঁর মতামত বিশেষ গুরুত্ব পেত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর যখন খলিফা নিয়ে বিতর্ক উঠল, তখন তিনি সে বিতর্ক এই বলে মিটিয়ে দিলেন যে, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহাজির ছিলেন, আমরা তাঁর সহযোগী ছিলাম, তাই তাঁর খলিফাও মুহাজিরদের থেকে হবেন, আমরা হবো সহযোগী।’ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খেলাফতকালে তাঁকে কাজি হিসেবে নিয়োগ দেন। কোনো জায়গায় সফরে গেলে তাঁকে প্রতিনিধি বানিয়ে যেতেন। ইমাম শাবি রহ. বলেন, একবার যায়েদ ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘোড়ায় আরোহণ করতে যাবেন, তখন ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সহযোগিতার জন্য লাগাম ধরে রাখলেন। যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই, দয়া করে আপনি সরে যান।’ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিলেন, ‘না, আমরা আমাদের উলামা ও বড়দের সাথে এরকম আচরণ করি।’

ব্যক্তিগত জীবন
সাবেত ইবনু উবাইদ বলেন, ‘যায়েদ ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু পরিবারে ছিলেন আমুদে, আর মানুষের সামনে ছিলেন গম্ভীর প্রকৃতির।’
যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র স্ত্রী তিনজন ছিলেন। তাঁরা হলেন, উম্মু জামিল, উম্মু সা’দ ও আমরাহ বিনতু মুয়ায ইবনি আনাস। উম্মু জামিলের ঘরে এক ছেলের জন্ম হয়, নাম সাঈদ। উম্মু সাদ, তিনি বদরি সাহাবি সা’দ ইবনু রবি’ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র মেয়ে, তাঁর ঘরে ১২ সন্তানের জন্ম হয়। তাঁরা হলেন—খারেজা, সুলাইমান, ইয়াহইয়া, উমারাহ, ইসমাইল, আসআদ, উবাদা, ইসহাক, হাসানাহ, আমরাহ, উম্মু ইসহাক ও উম্মু কুলসুম। আর আমরাহ বিনতু মুয়াযের ঘরে চার সন্তানের জন্ম হয়। তাঁরা হলেন—ইবরাহিম, মুহাম্মাদ, আবদুর রহমান ও উম্মু হাসান। এ ছাড়া তাঁর দুই বাঁদির ঘরে আরও ১১ সন্তানের জন্ম হয়। তাঁরা হলেন—আবদুর রহমান, উবায়দুল্লাহ, সালীত, ইমরান, হারিস, সাবেত, উম্মু কুলসুম, সাফিয়্যাহ, কারিবাহ ও উম্মু মুহাম্মাদ।
তাঁর এ সকল সন্তানের মধ্যে খারেজা ইবনু যায়েদ রহ. ছিলেন বিখ্যাত তাবেয়ি। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে আলেমের ছেলে আলেম, পিতার যোগ্য উত্তরসূরী। তাঁর সম্পর্কে উবায়দুল্লাহ ইবনু উমর বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবিগণের পরে মদিনায় ফিকহের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন খারেজা ইবনু যায়েদ এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব।’

ইন্তেকাল
৪৫ হিজরি সনে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু’র শাসনামলে এই বিখ্যাত সাহাবি মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আজ ইলমের বিশাল একটা অংশ দাফন হয়ে গেল।’ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আজ এই উম্মতের গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী একজন আলেম মৃত্যুবরণ করলেন। আশা করি, আল্লাহ তাআলা ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর প্রতিনিধি বানিয়ে দেবেন।’ কবি হাসসান ইবনু সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু আবৃত্তি করেন—
فَمَنْ لِلْقَوَافِيْ بَعْدَ حَسَّانٍ وَابْنِهِ + وَمَنْ لِلْمَثَانِيْ بَعْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتِ
কে-বা আছে কাব্যের
হাসসান আর তার
পুত্রের পরে,
কুরআনের কে-বা আছে
সাবিতপুত্র (কারি)
যায়েদের পরে।

তথ্যসূত্র
তাবাকাত ইবনু সা’দ— ৫/৩০৬
আল ইসাবাহ— ২/৪৯০
সিয়ারু আ’লামিন নুবালা— ২/৪২৬
সিফাতুস সাফওয়াত— ২৫৪
উসদুল গাবাহ— ৪২৪

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

error: Content is protected !!