শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

সাহাবায়ে কেরামের বিনয়

0

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বিনয় :
আসলাম রহ. বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন উটে চড়ে সিরিয়া পৌঁছুলেন, সেখানকার কাফেররা তাঁর সওয়ারি ও বেশভূষা দেখে পরস্পর সমালোচনা করতে লাগল। তিনি বললেন, ‘এদের দৃষ্টি ওইসব লোকের সওয়ারির দিকে নিবদ্ধ হচ্ছে, পরকালে যাদের কোনো অংশ নেই।’
হিযাম ইবনু হিশাম রহ. তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, আমি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছি, একদা তিনি জনৈকা মহিলাকে দেখলেন, সে আসীদাহ (আটা ও ঘি দিয়ে তৈরি একধরনের হালুয়া) তৈরির জন্য আটা ঘুটছে। তিনি ‘এইভাবে নয়।’ বলে মহিলার হাত থেকে ঘুটনি নিয়ে নিজে ঘুটে দেখালেন এবং বললেন, ‘এভাবে ঘুটো।’ হিশাম ইবনু খালিদ বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমি মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি, ‘পানি গরম হবার আগে তোমরা আটা ঢেলো না। বরং পানি গরম হলে পরে অল্প অল্প করে আটা ঢালবে এবং ঘুটনি দিয়ে ঘুটতে থাকবে। এতে আটা ফুলে উঠবে, দলা পাকাবে না।’
যির রহ. বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমি (ঈদের দিন) ঈদগাহের উদ্দেশ্যে খালি পায়ে হেঁটে যেতে দেখেছি।

প্রবৃত্তি-বিরোধিতার অভিনব পদ্ধতি
মুহাম্মাদ ইবনু উমর মাখযুমী তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, একদিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘আসসালাতু জা-মিআতুন’ বলে ঘোষণা দেন। ঘোষণা শুনে লোকজন জড়ো হলে তিনি মসজিদের মিম্বরে ওঠেন। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রশংসা এবং দুরুদ শরীফ পাঠ-পূর্বক বলেন, ‘লোক সকল, একটা সময় আমি বনূ মাখযুম গোত্রের আমার খালাদের বকরি চরাতাম। মজুরি হিসেবে তাঁরা আমাকে একমুষ্টি খেজুর অথবা কিসমিস দিতেন। আর এতেই আমার সারাদিন কাটত। কেমন দিনই না ছিল তখন!’ এটুকু বলে তিনি মিম্বর থেকে নেমে গেলেন। আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন, এ বক্তব্য দিয়ে আপনি নিজেকে ছোটই করলেন কেবল!’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘ইবনু আউফ, তোমার ধ্বংস হোক! আমি একাকী ছিলাম, এমন সময় আমার প্রবৃত্তি আমাকে (প্ররোচনা) দিয়ে বলল, “তুমি তো আমীরুল মুমিনীন, তোমার চেয়ে উত্তম আর কে আছে!” তাই (এই প্ররোচনা থেকে বাঁচতে) আমি আমার প্রবৃত্তিকে তার আসল পরিচয় প্রদান করার ইচ্ছে করি।’
অন্য বর্ণনায় (ঘটনাটি) এভাবে এসেছে—তিনি লোকজনকে বললেন, ‘একটা সময় আমি আমার অবস্থা এরকম দেখেছি যে, আহারের মতো কিছু আমার কাছে ছিল না। বনূ মাখযুম গোত্রে আমার কয়েকজন খালা ছিলেন। আমি তাদের জন্য মিষ্টি পানি সংগ্রহ করে দিতেন, এর বিনিময়ে তাঁরা আমাকে একমুষ্টি কিসমিস দিতেন।’ এই বর্ণনার শেষাংশে এসেছে—(তিনি বলেন,) ‘আমি আমার প্রবৃত্তির তাড়নায় কিছু অহংকার অনুভব করি, তাই তাকে তুচ্ছ করার ইচ্ছে করি।’
হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার গরমের দিনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু চাদর দিয়ে মাথা ঢেকে বের হলেন। এমন সময় এক বালক গাধায় চড়ে তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেন, ‘বেটা আমাকে তোমার সঙ্গে (সওয়ারিতে) উঠিয়ে নাও।’ ছেলেটি গাধা থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়ল এবং বলল, ‘আমীরুল মুমিনীন, ওঠুন।’ তিনি বললেন, ‘না, আগে তুমি ওঠো, আমি তোমার পেছনে বসব। তুমি আমাকে নরম জায়গায় বসিয়ে নিজে শক্ত জায়গায় বসতে চাচ্ছ? (এটা হতে পারে না।)’ তারপর তিনি ছেলেটির পেছনে বসলেন। এবং পেছনে বসেই মদীনায় প্রবেশ করলেন। লোকজন এই অবস্থায় তাঁকে দেখছিল।
সিনান ইবনু সালামাহ ইযালী রহ. বলেন, মদীনায় অবস্থানকালে একদিন আমি কয়েকটি ছেলের সঙ্গে কাঁচা খেজুর কুড়ানোর জন্য বের হই। এমন সময় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে উপস্থিত হন। তাঁর হাতে ছিল একটি চাবুক। ছেলেরা তাঁকে দেখে খেজুর বাগানের ভেতর পালিয়ে যায়। কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে থাকি। আমার লুঙ্গির ভেতর কিছু কুড়ানো-খেজুর ছিল। আমি বললাম, ‘আমীরুল মুমিনীন, এ খেজুরগুলো বাতাসে ফেলেছে।’ তিনি আমার লুঙ্গির ভেতর খেজুর দেখলেন, কিন্তু আমাকে মারলেন না। আমি বললাম, ‘আমীরুল মুমিনীন, (পালিয়ে-যাওয়া) ছেলেগুলো ফিরে এসে আমার খেজুরগুলো কেড়ে নেবে।’ তিনি বললেন, ‘নিতে পারবে না, (আমার সঙ্গে) চলো।’ তারপর তিনি আমাকে আমার ঘর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যান।
মালিক রহ. তাঁর চাচার সূত্রে, তাঁর চাচা তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তিনি দেখেছেন। তাঁরা যখন মক্কা থেকে ফিরতেন, মদীনার বাইরে মুসাফিরদের ছাউনীতে অবস্থান নিতেন। তারপর (কাফেলার) সাথিরা যখন মদীনায় প্রবেশের জন্য সওয়ারিতে উঠতেন, প্রত্যেকেই নিজেদের সঙ্গে (মদীনার) কোনো বালককে উঠিয়ে নিতেন। এবং এই অবস্থায় মদীনায় প্রবেশ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও তাঁদের সঙ্গে কোনো বালককে (সওয়ারিতে) ওঠাতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটা কি তাঁরা বিনয় প্রকাশের জন্য করতেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। তবে (অনেক সময়) পায়দল পথচারীকে সওয়ারি দ্বারা সাহায্য করাও উদ্দেশ্য থাকত। এ ছাড়া সাধারণ লোকের মতো আরোহনও উদ্দেশ্য থাকত, যাতে অন্যান্য শাসক বা রাজা-বাদশাহদের মতো বিশিষ্টতা তাঁদের মধ্যে প্রকাশ না পায়।’ তারপর তিনি লোকজনের বর্তমান রেওয়াজ অর্থাৎ—নিজে সওয়ার হয়ে বালক কিংবা খাদিমকে পেছনে হাঁটানোর কথা উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বিনয়
মাইমুন ইবনু মিহরান রহ. বলেন, হামদানী রহ, বলেছেন, তিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন, উসমান নিজ খাদিম নাইলকে নিজের সওয়ারির পেছনে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অথচ তখন তিনি খলীফা ছিলেন।
আবদুল্লাহ রুমী রহ. বলেন, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু রাতের বেলা নিজের অযুর ব্যবস্থা নিজেই করতেন। একবার তাঁকে বলা হলো, ‘কোনো খাদিমকে বললে সে-ই তো আপনার অযুর ব্যবস্থা করে দিত!’ তিনি বললেন, ‘রাত হলো তাদের হক। এই সময়টায় তারা বিশ্রাম নেবে।’
যুবাইর ইবনু আবদিল্লাহ রহ. তাঁর দাদি—যিনি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খিদমাত করতেন—তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেন, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ পরিবারের ঘুমন্ত কাউকে জাগাতেন না। তবে কাউকে জাগ্রত পেলে ডাকতেন এবং অযুর পানির জন্য বলতেন। আর তিনি সর্বদা রোযা রাখতেন।
হাসান রহ. বলেন, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমি মসজিদে চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমোতে দেখেছি। তাঁর আশেপাশে তখন কেউ নেই, অথচ তিনি আমীরুল মুমিনীন।

আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বিনয়
উনাইসাহ রহ. বলেন, (মদীনার) মহল্লার মেয়েরা নিজেদের বকরি নিয়ে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছে আসত। তিনি মেয়েদের বলতেন ‘তোমাদের জন্য ইবনু আফরার মতো দুধ দোহন করে দিলে তোমরা খুশি হবে?’
ইতোপূর্বে খলীফাদের সীরাত বিষয়ক আলোচনায় আম্মাজান আয়েশা, ইবনু উমর ও ইবনুল মুসাইয়াব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিন সকালবেলা বাজারে গিয়ে তিনি ক্রয়বিক্রয় করতেন। তাঁর বকরির পাল ছিল, যেগুলো সন্ধ্যায় ঘরে ফিরত। বকরি চরাতে কখনো তিনি নিজে যেতেন, কখনো তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ। মহল্লার লোকজনের বকরির দুধ দোহন করে দিতেন তিনি। তিনি খলীফা নিযুক্ত হবার পর মহল্লার কোনো এক মেয়ে বলল, ‘এখন তো কেউ আর আমাদের বকরি দুধ দোহন করে দেবে না!’ আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে বললেন, ‘আমার জীবনের কসম, (এখনো) অবশ্যই আমি তোমাদের বকরির দুধ দোহন করে দেবো। আশা করি, খিলাফাতের দায়িত্ব আমার পূর্বের চরিত্রকে পরিবর্তন করতে পারবে না।’ তাঁর এই কথামতো তিনি (আগের মতোই) মহল্লার লোকদের বকরির দুধ দোহন করে দিতেন। পাড়ার মেয়েদের তিনি জিজ্ঞেস করতেন, দুধ ফেনাযুক্ত দোহন করবেন নাকি ফেনা ছাড়া। কেউ বলত ফেনাযুক্ত, কেউ ফেনা ছাড়া। যে যেভাবে বলত তিনি সেভাবেই দোহন করে দিতেন।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বিনয়
কাপড়-বিক্রেতা সালিহ রহ. তাঁর দাদির সূত্রে বর্ণনা করেন, দাদি বলেন, একদিন আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখলাম একদিরহামের বিনিময়ে কিছু খেজুর ক্রয় করে তা নিজের চাদরের মধ্যে রেখেছেন। আমি অথবা অন্য কেউ বলল, ‘আমীরুল মুমিনীন, আমাকে দিন, আমি তা বহন করি।’ তিনি বললেন, ‘না, সন্তানের পিতাই বহন করার অধিক উপযুক্ত।
যাযান রহ. বলেন, খলীফা হবার পরও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বাজারে একাকী চলাফেরা করতেন, পথভোলাকে পথ দেখাতেন, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে তালাশ করতেন, দুর্বলকে সাহায্য করতেন এবং দোকানী ও সবজি বিক্রেতার কাছে গিয়ে এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন—
অর্থ : এই আখেরাত আমি ওই সব ব্যক্তির জন্যই নির্দিষ্ট করেছি, যারা ভূপৃষ্ঠে বড় (অহংকারী) হতেও চায় না, ফাসাদও সৃষ্টি করতে চায় না।
(এর সঙ্গে) বলতেন, ‘ন্যায়পরায়ণ ও বিনয়ী শাসক এবং লোকজনের ওপর ক্ষমতাশীল ব্যক্তির ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।’
জুরমুয রহ. বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমি এই অবস্থায় দেখেছি যে, তিনি ঘর থেকে বের হয়েছেন, পরনে হালকা লাল রঙের দুটো কাপড়। একটি পায়ের অর্ধ-গোছ-পরিমাণ লুঙ্গি, আর অন্যটি চাদর; যা লুঙ্গির সমান এবং উপরের দিকে ওঠানো। একটি চাবুক হাতে নিয়ে তিনি বাজারের ভেতর হাঁটতে থাকেন। লোকজনকে আল্লাহকে ভয় করার এবং উত্তমরূপে বিক্রয়ের আদেশ করে বলতে থাকেন, ‘তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ণরূপে করো। গোশতের ভেতর ফুঁ দিয়ে ফুলিয়ো না।’
আবূ মাতার রহ. বলেন, একদিন আমি মসজিদ থেকে বের হয়েছি, এমন সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি বলল, ‘তোমার লুঙ্গি উপরে ওঠাও। কারণ, এটা তোমার রবকে অধিক ভয় করার অন্তর্ভুক্ত এবং তোমার কাপড়ের জন্য অধিক পরিচ্ছন্নতা। আর যদি তুমি মুসলিম হয়ে থাকো, তবে মাথার চুল খাটো করো।’ তাকিয়ে দেখি, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু (এ কথাগুলো বলছেন), তাঁর সঙ্গে একটি চাবুক। তারপর তিনি উটের বাজারে গেলেন এবং বললেন, ‘বিক্রয় করো, তবে কসম খেয়ো না। কারণ, কসম দ্বারা যদিও পণ্য বিক্রয় হয়ে যাবে, কিন্তু তা বরকত দূর করে দেবে।’ এরপর তিনি খেজুর-বিক্রেতার কাছে গেলেন। দেখলেন, একজন দাসী কাঁদছে। জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কী হয়েছে?’ বলল, ‘এই লোক আমার কাছে একদিরহামে খেজুর বিক্রি করেছে, কিন্তু আমার মনিব তা নিতে চাচ্ছেন না।’ তিনি বিক্রেতাকে বললেন, ‘খেজুর ফেরত নিয়ে তার দিরহাম দিয়ে দাও। কারণ, (পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে) তার কোনো স্বাধীনতা নেই।’ বিক্রেতা অস্বীকার করতে চাইল। (বর্ণনাকারী আবূ মাতার বলেন,) আমি বললাম, ‘তুমি কি জানো না, ইনি কে?’ বিক্রেতা বলল, ‘না।’ আমি বললাম, ‘ইনি আলী—আমীরুল মুমিনীন।’ সে সঙ্গে সঙ্গে খেজুরগুলো নিয়ে নিলো এবং দিরহাম ফেরত দিয়ে বলল, ‘আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন, এটাই আমার প্রার্থনা।’ তিনি বললেন, ‘আমি তোমার প্রতি খুবই সন্তুষ্ট থাকব, যদি তুমি লোকদের প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করো।’ এরপর তিনি খেজুর-বিক্রেতাদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন, ‘তোমরা মিসকীনদের খাওয়াও, তোমাদের আয় বেড়ে যাবে।’ চলতে চলতে একসময় তিনি মাছওয়ালাদের কাছে গেলেন। (তাদের লক্ষ করে) বললেন, ‘পানিতে আপনাআপনি মরে ভেসে উঠে, এমন মাছ আমাদের বাজারে বিক্রি হবে না।’ তারপর তৈরি পোষাকের দোকান-এলাকায় গেলেন। সুতি-কাপড়ের বাজার ছিল সেটা। (এক দোকানিকে) বললেন, ‘মুরব্বি, তিন দিরহামের একটি কোর্তা কিনব, ভালোভাবে বিক্রয় করুন।’ কিন্তু যখন বুঝতে পারলেন দোকানদার তাঁকে চিনে ফেলেছে, তার কাছ থেকে আর কিনলেন না। অন্য দোকানে গেলেন। ওই দোকানদারও তাকে চিনে ফেলে, তাই সেখান থেকেও আর কিনলেন না। অন্য আরেক দোকানে গেলেন। সেখানে অল্প বয়স্ক এক বালক ছিল, তার কাছ থেকে তিন দিরহামের বিনিময়ে একটা কোর্তা কেনেন। এর হাতা ছিল কব্জি পর্যন্ত আর ঝুল টাখনু পর্যন্ত। পরে দোকানের মালিক এলে কেউ তাকে বলল, ‘তোমার ছেলে আমীরুল মুমিনীনের কাছে তিন দিরহামে একটি কোর্তা বিক্রি করেছে।’ সে তার ছেলেকে বলল, ‘তাঁর কাছে দুই দিরহামে কেন বিক্রি করলে না।?’ তারপর সে এক দিরহাম নিয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছে গেল এবং বলল, ‘এই এক দিরহাম গ্রহণ করুন।’ তিনি জানতে চাইলেন, কেন এটা গ্রহণ করবেন। উত্তরে সে বলল, ‘কোর্তার দাম দুই দিরহাম, আমার ছেলে তা তিন দিরহামে বিক্রি করে ফেলেছে।’ তিনি বললেন, ‘সে আমার কাছে রাজি হয়ে বিক্রি করেছে, আর আমিও সন্তুষ্টচিত্তে ক্রয় করেছি। (অতএব, এই দিরহাম আমি ফেরত নেবো না।)’

ফাতিমা ও উম্মু সালামা রা.-এর বিনয়
আতা রহ. বলেন, রাসূল ﷺ-এর কন্যা ফাতিমা রা. আটা মলতেন এমতাবস্থায় তাঁর কপালের চুল আটার গামলার উপর আঘাত করতে থাকত।
মুত্তালিব ইবনু আবদিল্লাহ রহ, বলেন, আরবের শ্রেষ্ঠ নারী অর্থাৎ উম্মু সালামা রা. সাইয়িদুল মুরসালীন ﷺ-এর ঘরে রাতের প্রথম প্রহরে নববধূ বেশে প্রবেশ করেন আর রাতের শেষ প্রহরে আটা পিষতে লেগে যান।

সালমান রা.-এর বিনয়
সালামাহ ইজলী রহ. বলেন, কুদামাহ নামে আমার এক ভাগ্নে ছিল। গ্রাম থেকে সে আমার কাছে এসে বলে, ‘সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সঙ্গে দেখা করে আমি তাঁকে সালাম জানাতে চাই।’ সুতরাং আমরা তাঁর (সালমান ফারসী) সঙ্গে মুলাকাতের জন্য বের হই। মাদাইনে তাঁর সঙ্গে দেখা হলো। তিনি তখন ২০ হাজার (সৈন্যের) কমান্ডার ছিলেন। দেখলাম, একটি খাটের উপর বসে তিনি খেজুরপাতা বুনছেন। সালাম দিয়ে বললাম, ‘আবূ আবদিল্লাহ, আমার এই ভাগ্নেটি গ্রাম থেকে এসেছে আপনাকে সালাম জানানো উদ্দেশ্যে।’ তিনি বললেন, ‘ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।’ আমি বললাম, ‘সে বলছে, সে আপনাকে ভালোবাসে।’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তাকে ভালোবাসুন।’
হারিস ইবনু উমাইরাহ রহ. বলেন, মাদাইনে আমি সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সঙ্গে দেখা করতে এসে তাঁকে চামড়া-তৈরির জায়গায় নিজ হাতে চামড়া মলতে দেখলাম এবং সালাম দিলাম। তিনি (সালামের জবাব দিয়ে) বললেন, ‘একটু অপেক্ষা করো, আমি আসছি।’ আমি বললাম, ‘আপনি বোধহয় আমাকে চিনতে পারেননি।’ তিনি বললেন, ‘অবশ্যই, (এই পৃথিবীতে) তোমাকে চেনার আগেই আমার রূহ তোমার রূহকে চিনেছে। কারণ, (রূহের জগতে) সমস্ত রূহ একত্রে ছিল। (সেখানে) যারা আল্লাহর ওয়াস্তে পরস্পর পরিচিত হয়েছে, তারা (এখানে) পরস্পর অনুরাগী হয়। আর যারা (সেখানে) আল্লাহর ওয়াস্তে পরিচিত হয়নি, তারা এখানে পরস্পর বিরাগী হয়।’
আবূ কিলাবাহ রহ. সূত্রে বর্ণিত, এক ব্যক্তি সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছে এসে তাঁকে আটা মলতে দেখে বলল, ‘এ কী!’ তিনি বললেন, ‘খাদিমকে একটি কাজে বাইরে পাঠিয়েছি। একসঙ্গে দুই কাজ তার উপর চাপিয়ে দিতে আমি পছন্দ করি না।’ (আগন্তুক) বলল, ‘অমুক আপনাকে সালাম জানিয়েছে।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কবে এসেছ (সালামদাতার কাছ থেকে)?’ সে বলল, ‘এত দিন হয় এসেছি।’ তিনি বললেন, তুমি যদি এই সালাম না পৌঁছাতে, তবে ব্যাপারটা এমন হতো, যেন তুমি একটি আমানত (তার হকদারের কাছে) পৌঁছালে না।’
আমর ইবনু আবি কুররাহ কিন্দী রহ. বলেন, আমার বাবা আবূ কুররাহ তাঁর বোনকে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু রাজি হননি। বরং তিনি মুক্তিপ্রাপ্তা এক দাসীকে বিয়ে করেন। তারপর একদিন আবূ কুররাহ জানতে পারলেন সালমান ফারসী ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র মধ্যে মনোমালিন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে তিনি হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র খোঁজে বের হন। (কারও কাছ থেকে) জানতে পারেন, তিনি তাঁর সবজিবাগানে আছেন। (আবূ কুররাহ) সবজিবাগানে গিয়ে দেখেন, তাঁর সঙ্গে একটি থলি, থলিতে সবজি রাখা এবং থলির হাতলের ভেতর নিজের লাঠি ঢুকিয়ে তা কাঁধে ঝুলিয়ে রেখেছেন। সেখান থেকে আমরা সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বাড়িতে আসলাম। তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম।’ (সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূ কুররাহকে ঘরে ঢোকার) অনুমতি প্রদান করেন। (আবূ কুররাহ) দেখেন (ঘরের ভেতর) একটি চাদর বিছানো আর শিয়রের কাছে কয়েকটি কাঁচা ইট। এ ছাড়া ঘোড়ার পিঠে বিছানো হয় যে কম্বলগুলো, এরকম একটি কম্বল ও সামান্য কিছু জিনিসপত্র ছাড়া ঘরে আর কিছুই নেই। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তোমার দাসীর জন্য বিছানো বিছানায় বসো।’ (উক্ত দাসী সম্ভবত আবূ কুররাহ’র আযাদ করে দেওয়া দাসী। এই কারণেই সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘তোমার দাসী’ বলেছেন।)
বনূ আবদি কাইসের এক ব্যক্তির সূত্রে মাইমুন ইবনু মিহরান রহ. বর্ণনা করেন, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি সেনাদলের কমান্ডার ছিলেন। একদিন দেখি, তিনি পায়জামা পরা অবস্থায় গাধায় সওয়ার হয়ে আছেন আর তাঁর উভয় পায়ের গোছা দুলছে। সৈন্যরা (তাঁর এই সাধারণ বেশভূষা দেখে ব্যঙ্গ করে) বলতে লাগল, ‘এহ! কমান্ডার এসেছে!’ (তাদের এই তাচ্ছিল্য শুনে) সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘ভালো-মন্দ আজকের পরেই হবে। (অর্থাৎ, ভালো-মন্দের বিচার দুনিয়ায় নয়, আখেরাতে হবে।)’
অন্য বর্ণনায় আছে, বনূ আবদি কাইসের এক ব্যক্তি বলেন, একবার আমি সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সঙ্গে ছিলাম। তিনি তখন এক সৈন্যদলের কমান্ডার। সৈন্যদলের কয়েক জওয়ানের পাশ দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, এমন সময় তারা (তাঁকে দেখে) হেসে উঠল এবং বলল, ‘এই তোমাদের কমান্ডার!’ আমি বললাম, ‘আবূ আবদিল্লাহ, এরা কী বলছে, আপনি শুনছেন না?’ তিনি বললেন, ‘বাদ দাও তাদের কথা! ভালো-মন্দের বিচার আগামীকাল (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন) হবে। তুমি যদি মাটি খেয়ে থাকতে পারো, তবে তাই কোরো, তারপরও দুজনের মধ্যে কখনো নেতা হয়ো না। নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত লোকের বদদুআ থেকে বেঁচে থেকো। কারণ, তাদের দুআ (কবুল হতে) কোনো বাধার শিকার হয় না।’
সাবিত রহ. বলেন, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মাদাইনের আমীর ছিলেন। তিনি স্থানীয় একধরনের উঁচু পায়জামা ও আরবী আবা পরে মানুষজনের সামনে আসতেন। মানুষজন তাঁকে দেখে বলত, ‘কুরুক এসেছে… কুরুক এসেছে…।’ সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করতেন, ‘এরা কী বলছে?’ সাথিরা বলতেন, ‘তারা আপনাকে একধরনের খেলনা পুতুলের মতো বলছে।’ তিনি বলতেন, ‘তাদের উপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই (অর্থাৎ যা মন চায় বলুক)। ভালোর বিচার আগামীকালই (অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন) হবে।’
হুরাইম রহ. বলেন, আমি সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে গদিবিহীন গাধার উপর দেখেছি। তাঁর পরনে খাটো একটি সুরুম্বুলানী কোর্তা ছিল। তিনি অধিক লোমযুক্ত লম্বা পা-বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। কোর্তা প্রায় হাঁটুর কাছাকাছি উঠিয়ে পরেছিলেন। হুরাইম রহ. বলেন, (তাঁর এই বেশ-ভূষার কারণে) ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখেছি তাঁর পেছনে লাফালাফি করছে। আমি বললাম, ‘তোমরা আমীরের কাছ থেকে সরবে না?’ তিনি বললেন, ‘ছাড়ো এদেরকে! ভালোমন্দের বিচার তো আগামীকাল হবে।’
সাবিত রহ. বলেন, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন মাদাইনের আমীর ছিলেন। সিরিয়ার বনূ তাইমিল্লাহ গোত্রের এক লোক একদিন (তাঁর সামনে দিয়ে) আনজির ফলের বোঝা নিয়ে যাচ্ছিল। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন উঁচু পায়জামা ও আরবী আবায়া পরা ছিলেন। সে তাঁকে চিনতে না পেরে বলল, ‘আমার বোঝাটি বহন করো।’ তিনি (সঙ্গে সঙ্গে) বোঝাটি (নিজের কাঁধে নিয়ে) চলতে শুরু করলেন। লোকজন তাঁকে দেখে চিনতে পারল এবং বলল, ‘ইনি তো আমীর!’ (বোঝার মালিক) লোকটি (লজ্জিত হয়ে) বলল, ‘(মাফ করবেন,) আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। (বোঝাটি আমার কাছে দিয়ে দিন।)’ সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘না, আমি তোমার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেবো।’ অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, ‘আমি ইরাদা করেছি, তোমার বাড়ি পৌঁছার আগে এই বোঝা আমি নামাবো না।’
আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ রহ. বলেন, সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ হাতে উপার্জন করতেন। যা উপার্জন করতেন, এর দ্বারা গোশত অথবা মাছ কিনতেন। তারপর কুষ্ঠরোগীদের দাওয়াত দিয়ে আনতেন, তারা তাঁর সঙ্গে একত্রে বসে আহার করত।

হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বিনয়
মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন রহ. বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন কোনো এলাকার জন্য আমীর নিযুক্ত করে পাঠাতেন, তখন তাঁর অঙ্গীকারপত্রে এটা লিখে দিতেন—‘তোমরা তাঁর কথা শুনবে এবং তাঁকে মেনে চলবে যতক্ষণ তিনি তোমাদের মধ্যে ইনসাফ করেন।’ সে-মুতাবিক হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন মাদাইনের আমীর নিযুক্ত করলেন, তখন তাঁর অঙ্গীকারপত্রেও এটা লিখে দিলেন—‘তোমরা তাঁর কথা শুনবে এবং তাঁকে মেনে চলবে। পাশাপাশি তিনি তোমাদের কাছে যা চান, তা প্রদান করবে।’ হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সফরের সামানাদি নিয়ে গদি-আঁটা গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু’র কাছ থেকে বিদায় নিলেন। মাদাইন পৌঁছবার পর সেখানকার বাসিন্দা লোকজন তাঁকে স্বাগত জানাতে আসে। তিনি তখন গদি-আঁটা গাধায় সওয়ার অবস্থায়ই ছিলেন, হাতে ছিল একটি রুটি ও একটুকরো গোশতের হাঁড়। তিনি তাদেরকে অঙ্গীকারপত্র পড়ে শুনালেন। তারা বলল, ‘আপনি যা চান, বলুন।’ তিনি বললেন, ‘আমার খাবারের ব্যবস্থা চাই, আমার এ গাধার খাবারেরও ব্যবস্থা চাই।’ তারপর তিনি যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল, ততদিন তাদের মধ্যে ছিলেন। একদিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু চিঠি লিখে তাঁকে বললেন, ‘ফিরে আসো।’ (চিঠি পাওয়ামাত্রই তিনি ফেরত রওনা হলেন।) তিনি আসছেন জানতে পেরে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু (তাঁর সঠিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য) রাস্তার পাশে এমনভাবে বসে রইলেন, যাতে তিনি টের না পান। অবশেষে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন দেখলেন তিনি সেই অবস্থায়ই ফিরে আসছেন যে অবস্থায় তিনি তাঁর কাছ থেকে গিয়েছিলেন, তখন তিনি (আড়াল থেকে বের হয়ে) তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, ‘তুমি আমার ভাই এবং আমি তোমার ভাই।’
অন্য বর্ণনায় আছে, ইবনু সীরীন রহ. বলেছেন, হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মাদাইন পৌঁছেন, তখন গাধার পিঠে গদির উপর বসা ছিলেন। হাতে ছিল একখানা রুটি ও একটি হাঁড়। গাধার পিঠে বসে তিনি তা খাচ্ছিলেন। অন্য আরেক বর্ণনায় আছে, তিনি উভয় পা একদিকে বসেছিলেন।

জারীর ও আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র বিনয়
সুলাইম—আবুল হুযাইল রহ. বলেন, আমি জারীর ইবনু আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু’র দরজার কাছে বসে কাপড়-ছোপড়ের রিপুর কাজ করতাম। তিনি খচ্চরে চড়ে বের হতেন এবং নিজের গোলামকে পেছনে বসিয়ে নিতেন।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, একদিন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু লাকড়ির বোঝা মাথায় নিয়ে বাজারের মাঝ দিয়ে যান। কেউ তাঁকে বলল, ‘আল্লাহ তাআলা তো আপনাকে এই কাজের জন্য লোকবল দিয়েছেনই, তারপরও কেন আপনি এই কাজ করছেন?’ তিনি বললেন, ‘এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য—অহংকার দূর করা। কারণ, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি—যার অন্তরে রাই পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ অন্য বর্ণনায় রাই পরিমাণের বদলে ‘ক্ষুদ্র বালুকণা পরিমাণ অংকার’ বলা হয়েছে।

রচনাটি আল্লামা ইউসুফ কান্ধলভি রহ. রচিত ‘হায়াতুস সাহাবাহ’ গ্রন্থ থেকে চয়নকৃত
অনুবাদ : আবু তাশফি

শেয়ার করুন

লেখক পরিচিতি

error: Content is protected !!